Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
Lead 1
Lead 2
Lead 4
Lead 5
Lead3
অন্য পত্রিকার খবর
অন্য পত্রিকার খবর ১
অন্য পত্রিকার খবর ২
অন্য পত্রিকার খবর ৩
আরও সংবাদ
ইসলাম
বিবিধ
ভিডিও নিউজ
মৌলিক




সতর্কতা জরুরি: ফের বাংলাদেশে তৎপর বিএনপির ইহুদি লবিস্ট রিচার্ড বেনিন(ভিডিও)


প্রকাশিত :১৩.০৩.২০১৮

নিউজ ডেস্ক: রিচার্ড এল বেনিন। দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষত ভারত ও বাংলাদেশে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সমর্থনপুষ্ট ইহুদি লবিস্ট ও কথিত মানবাধিকারকর্মী। পাসপোর্টে অনুমতি না থাকার পরেও একটি সেমিনারে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলে যাবার চেষ্টাকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ বিরোধী স্পর্শকাতর অনেক ডকুমেন্টসহ বিতর্কিত সাংবাদিক সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীকে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেফতারের পরও যার প্রভাব ও প্রচেষ্টায় তৎকালীন বিএনপি সরকার তাকে জামিনে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তিনিই হলেন রিচার্ড এল বেনিন।

রিচার্ড এল বেনিন ১৯৭৬ সালে স্যোসিওলজি’তে পেনসিলভানিয়া ভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ইলিয়নস রাজ্য লিক্সিংটন নার্সিং এন্ড রিহেবিলিটেশন সেন্টার নামে একটি নার্সিং হোম প্রতিষ্ঠা করেন। শিকাগো ট্রিবিউনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বেনিনের ওই নার্সিং হোমে রোগীরা নির্যাতনের শিকার হতো এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তাদের রাখা হতো। ২০০০ সালে ইলিনয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ‘বেনিন ২৭ বছর বয়সী গৃহহীন এক মাদকসেবী নারীকে নিজের কাছে রাখার ছলে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন।‘ এমন নানান প্রতারণা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২০০৩ সালে ইলিয়নস রাজ্যর স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার নার্সিং হোমের লাইসেন্স বাতিল করে।

এরপর আমেরিকায় বসবাসরত ইহুদিদের স্বার্থ রক্ষার নামে গড়ে ওঠা আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক এ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC) – এর সাথে যুক্ত হন তিনি, যার প্রধান সংগঠক এখন ড. রিচার্ড এল. বেনিন। জানা যায়, নাসিং হোমের আড়ালে এবং পরবর্তীতে AIPAC গঠনের পর বেনিন প্রকাশ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইহুদি গোষ্ঠীর স্বার্থে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে যোগসাজশে কাজ শুরু করেন যার একপর্যায়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ডিপ্লোমেট ও সাংবাদিকের সাথে সম্পর্ক তৈরির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বিতর্কিত সাংবাদিক শোয়েব চৌধুরী ও আমার দেশ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরীসহ আরো দুটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিকের সাথেও বেনিনের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

দেশদ্রোহিতা ও প্রতারণার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত সাংবাদিক শোয়েব চৌধুরীর মুক্তির জন্য কাজ করার সুবাদে তৎকালীন ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে বিএনপি সরকারের সাথেও রিচার্ড বেনিনের সম্পর্ক তৈরি হয়। এছাড়া তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সাথেও বেনিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে প্রকাশ পায়। ১০ এপ্রিল ২০০৬ সালের ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাবরের মধ্যস্ততায় তখনকার বিএনপি সরকার যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি সরকারের স্বার্থ রক্ষায় মাসিক চুক্তিতে দুটি ফার্মে লবিস্ট নিয়োগ করেছিল, যার একটি রিচার্ড বেনিনের AIPAC ।

এছাড়া ২০০৯ এর মার্চে ভারতে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বা আলোচিত ইসরায়েলি এক উপমন্ত্রীর উপদেষ্টা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে বাংলাদেশের মধ্যস্থতাকারী সঞ্জীব চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকও রিচার্ড বেনিন। মূলত বাংলাদেশে জায়নবাদী ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা ও বিনিময়ে বিএনপির স্বার্থ রক্ষার শর্তেই বেনিনের মাধ্যমে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও ইসরাইলের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের সাথে বিএনপির সকল যোগাযোগ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, রিচার্ড বেনিনের পরিচালনায় www.interfaithstrength.com নামে চরম বাংলাদেশবিরোধী একটি ওয়েবসাইট চালু আছে। যেখানে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে এমন প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র এবং ইসলামী উগ্রপন্থী ও জঙ্গিবাদীদের অভয়ারণ্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। ২০১৩/১৪ সালের দিকে বেনিন বাংলাদেশে এসে বিএনপি-জামায়াতের সহায়তায় মনগড়াভাবে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুদের উপর কথিত নির্যাতনের ইন্টারভিউ নিয়ে “বাংলাদেশে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত আছে” বলে একটি বই লিখেন এবং এ সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক ভিডিও তৈরি করে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারণায় লিপ্ত ছিলেন।

জানা যায়, বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দেশদ্রোহী প্রচারণায় লিপ্ত এই ইহুদি জায়নিস্ট ও লবিস্ট অতি সম্প্রতি পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তার এবারের মিশন বাংলাদেশে ইহুদি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় তার এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় দেশদ্রোহিতার অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত শোয়েব চৌধুরীকে মুক্ত করা এবং যেকোন মূল্যে সরকার পতনে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করা।

সূত্রমতে, উদ্দেশ্য সাধনে বেনিন ইতোমধ্যে কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তার পূর্ব পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বিতর্কিত সাংবাদিক এবং ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তাই শীঘ্রই রিচার্ড বেনিন ও তার এদেশীয় সহচরদের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।



Designed By BanglaNewsPost