Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
English
Lead 1
Lead 2
Lead 4
Lead 5
Lead3
অন্য পত্রিকার খবর
অন্য পত্রিকার খবর ১
অন্য পত্রিকার খবর ২
অন্য পত্রিকার খবর ৩
আরও সংবাদ
ইসলাম
বিবিধ
ভিডিও নিউজ
মৌলিক
শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন :

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মালিকানা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতার সুযোগ নেই(ভিডিও)


প্রকাশিত :১৫.০৫.২০১৮

নিউজ ডেস্ক: সফলভাবে জিওস্টেশনারি যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের বুকে। এটি একদিকে যেমন জাতীয় গৌরবের বিষয় অন্যদিকে দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বিএনপির সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মালিকানা দুইজন ব্যক্তির কাছে চলে গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলার দায়িত্ব যেহেতু মির্জা ফখরুল ইসলামের তাই আমরা ধরেই নিতে পারি এটা বিএনপির অফিসিয়াল বক্তব্য। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর উন্মুক্ত সব প্রমাণাদি ঘেটে দেখে নিতে পারি আমরা, আসলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মালিকানা কার হাতে রয়েছে।

প্রথমত, একথা স্পষ্ট করে বলা যায় যে, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মালিকানা বাংলাদেশের হাতেই রয়েছে এবং এর পরিচালনাও বাংলাদেশই করবে। স্যাটেলাইটটি বানিয়েছে ফ্রান্স, উৎক্ষেপণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং উৎক্ষেপণের জন্য মহাকাশে অরবিট স্লট নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কেনা হয়েছে রাশিয়ার কাছ থেকে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সঙ্গে এই তিন দেশের খুব নিবিড় সংশ্লিষ্টতা থাকলেও সব কিছুই হয়েছে অর্থের বিনিময়ে। তাদের কাউকেই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মালিকানা দাবি করার কোনো প্রকার সুযোগ নেই।

ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালেস অ্যালেনিয়া বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থের বিনিময়ে স্যাটেলাইটটি বানিয়ে দিয়েছে কারণ এটা তারা সব সময় করে থাকে এবং এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড স্টেশনটিও তাদের তৈরি করা। মার্কিন কোম্পানি স্পেসএক্স তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রকেট দিয়ে এটাকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে। সেটিও অর্থের বিনিময়ে এবং উৎক্ষেপণের সঙ্গে আনুষাঙ্গিক কাজও তারা করেছে। এর পাশাপাশি রাশিয়ান কোম্পানি ইন্টার স্পুটনিক বাংলাদেশকে ভাড়ায় মহাকাশে স্যাটেলাইটের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষপথ বা অরবিটাল স্লট দিয়েছে। কাজেই সব কাজই তারা করেছে অর্থের বিনিময়ে বা ভাড়ায়। কিন্তু স্যাটেলাইটটির মালিকনা এবং পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ থাকছে বাংলাদেশ সরকারের হাতে। এর জন্য বাংলাদেশের গাজীপুর এবং বেতবুনিয়ায় স্যাটেলাইটের সিগন্যাল ধরতে গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করেছে বাংলাদেশ নিজেই।

দ্বিতীয়ত, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সরকার পৃথক একটি কোম্পানি তৈরি করেছে যার নাম, ‘ বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)’। বিসিএসসিএল প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট। ৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধনের এই কোম্পানি ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এই কোম্পানির প্রাথমিক শেয়ারের দাম ১০ টাকা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি পরিচালক ২০০ শেয়ার কিনেছে। ২০১৭ সালের জুলাইতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিন্ধান্ত অনুযায়ী বিসিএসসিএল প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ বা বিসিএসসিএল তাদের কমার্শিয়াল সাপোর্টের দিকটা দেখার জন্য এক বা একাধিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে চায়। আর বেক্সিমকো ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’কে কমার্শিয়াল সাপোর্ট দেওয়ার জন্য তালিকভুক্ত হতে আবেদন করেছে মাত্র, এখানেই ঘটনার ইতি। অথচ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বেক্সিমকোকে স্যাটেলাইটের মালিক বানিয়ে দেয়া হচ্ছে যা শুধু মিথ্যাচারই নয় অবাস্তবও বটে।

কাজেই কাগজে কলমে শুধু নয়, বাস্তবতার নিরিখেও স্যাটেলাইটটির মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ সরকার। সুতরাং, এই বিষয় নিয়ে মিথ্যাচার করে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা খুব একটা সুবিধা করতে পারবে বলে মনে করেন না সংশ্লিষ্টরা। কেননা বিএনপির দাবি করা ভুল তথ্য তথ্য- প্রযুক্তির এই যুগে বাস্তবসম্মত নয়।

শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন :


Designed By BanglaNewsPost