Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
English
Lead 1
Lead 2
Lead 4
Lead 5
Lead3
অন্য পত্রিকার খবর
অন্য পত্রিকার খবর ১
অন্য পত্রিকার খবর ২
অন্য পত্রিকার খবর ৩
আরও সংবাদ
ইসলাম
বিবিধ
ভিডিও নিউজ
মৌলিক
শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন :

এসকে সিনহার অবৈধ অর্থ উপার্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের বিবরণী


প্রকাশিত :২১.০৯.২০১৮

 

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। জানা গেছে, বিদেশে সম্পদের পাহাড় নিয়ে সুখেই আছেন তিনি। কিন্তু কিভাবে? দীর্ঘ ৯ মাসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সম্পর্কে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, এস কে সিনহা খুব গোপনীয়তা ও কৌশল অবলম্বন করে বিভিন্ন মামলা তদবিরের সঙ্গেও জাড়িত ছিলেন। যার মাধ্যমে তিনি উপার্জন করতেন কোটি কোটি টাকা। আর সে অর্থ তার কিছু বিশ্বস্ত লোক মারফত লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে প্রেরণ করতেন। শুধু অস্ট্রেলিয়ায় নয়, টাকা পাঠাতেন কানাডায় তার মেয়ের কাছেও।

এসকে সিনহা যেসব ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করেছেন তাদের মধ্যকার বেশ কয়েকজনের নামও জানা গেছে, যারা বরাবরই সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিশ্বাসভাজন বলে পরিচিত। তাদের মধ্যে আছেন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায়, সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক রণজিৎ, কানাডা প্রবাসী অভিবাসন আইনজীবি মেজর (অব.) সুধীর সাহা।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহার আস্থাভাজন যে সকল ব্যক্তি ও যেসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অষ্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় মানি লন্ডারিং করা হয়েছে তার বেশ কিছু ঘটনার বিস্তারিত বিবরণও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। নিম্নে তথ্য-বিবরণী প্রদান করা হলোঃ

(ক) কানাডায় অবৈধ অর্থ প্রেরণের তথ্যাবলিঃ

সিঙ্গাপুর প্রবাসী জনাব রণজিৎ- এর কাছ থেকে প্রাপ্ত অবৈধ অর্থ কানাডা প্রবাসী অচিন্ত কুমার (অনিরুদ্ধ কুমার রায় এর ভাই) এবং মেজর (অব.) সুধীর সাহা- এর মাধ্যমে এসকে সিনহার মেয়ে আশা সিনহার একাউন্ট নম্বরঃ ৫৫১৪২৩১, CIBC (ব্যাংক)- এ প্রেরণ করেন।
অর্থ আদান-প্রদান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যাদি নিম্নরূপ-

০৭ এপ্রিল ২০১৬। হুন্ডির মাধ্যমে মেজর (অব.) সুধীর সাহাকে ৫,০০০ ডলার পাঠান এসকে সিনহা। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৩ লক্ষ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। (ডলার প্রতি ৬২.৫ টাকা)

০৫ জুন ২০১৬। হুন্ডির মাধ্যমে এস কে সিনহা মেজর সুধীর সাহাকে ৮,০০০ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৫ লক্ষ ১০ হাজার ৪০০ টাকা। (ডলার প্রতি ৬৩.৮ টাকা)

১৩ জুলাই ২০১৬। হুন্ডির মাধ্যমে এবার টাকা পাঠানো হয় অচিন্ত কুমার রায়কে। দেয়া হয় ১০,০০০ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। (ডলার প্রতি ৬৫ টাকা)

১৮ জুলাই ২০১৬। হুন্ডির মাধ্যমে ২০,০০০ ডলার পাঠানো হয় অচিন্ত কুমার রায়ের কাছে। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্যমান ১৩ লাখ টাকা। (ডলার প্রতি ৬৫ টাকা)

২৩ নভেম্বর ২০১৬। হুন্ডিতে ৫,০০০ ডলার পাঠানো হয় মেজর (অব.) সুধীর সাহার কাছে। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। (ডলার প্রতি ৬৩ টাকা)

২৩ নভেম্বর ২০১৬। একইদিনে হুন্ডিতে মেজর (অব.) সুধীর সাহাকে পাঠানো হয় ১০,০০০ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। (ডলার প্রতি ৬৩ টাকা)

২৭ ডিসেম্বর ২০১৬। হুন্ডির মাধ্যমে অচিন্ত কুমার রায়কে পাঠানো হয় ২০,০০০ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় ১৩ লাখ টাকা।

১৯ জানুয়ারি ২০১৭। আবারও ১০ হাজার ডলার পাঠানো হয় অচিন্ত কুমার রায়কে।] বাংলাদেশি টাকায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। (ডলার প্রতি ৬৫ টাকা)

২০ জানুয়ারি ২০১৭। হুন্ডি ব্যবহার করে অচিন্ত কুমার রায়কে ৩৬,০০০ ডলার পাঠান সিনহা। বাংলাদেশি টাকার পরিমাণ ৩৬ লাখ টাকা। (ডলার প্রতি ৬৫. ২ টাকা)

সর্বসাকুল্যে হুন্ডির মাধ্যমে কেবল কানাডায় টাকা পাঠান মোট ৮০ লাখ ১৭ হাজার ৯০০ টাকা।

(খ) অষ্ট্রেলিয়ায় অবৈধ অর্থ প্রেরণের তথ্যাবলিঃ

সিঙ্গাপুর প্রবাসী জনাব রণজিৎ এর কাছ থেকে প্রাপ্ত অবৈধ অর্থ সূচনা সিনহা (এসকে সিনহার মেয়ে), একাউন্ট নম্বরঃ কমনওয়েলথ ব্যাংক, অষ্ট্রেলিয়া, একাউন্ট নম্বরঃ ১০৫৮৮৭৬৩ এবং শাওন বৈদ্য (প্রধান বিচারপতির মেয়ের স্বামী), একাউন্ট নম্বরঃ ১০৫০৮১৩৬, কমনওয়েলথ ব্যাংক, অষ্ট্রেলিয়া ও একাউন্ট নম্বরঃ ৫৫১৪২৩১, ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংক, অষ্ট্রেলিয়ায় প্রেরণ করা হয়। এ সংক্রান্ত বিবরণ নিম্নরুপঃ

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। হুন্ডির মাধ্যমে ৫০,০০০ ডলারন প্রেরণ। ডলার প্রতি ৬৩ টাকা করে বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্যমান দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। অনিরুদ্ধ কুমার রায়ের হংকংয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে ইন্দোনেশিয়ার পেনিন ব্যাংকের মাধ্যমে ২৫,০০০ ডলার প্রেরণ করা হয়। ৬৩ টাকা ডলার প্রতি বাংলাদেশি টাকার মূল্যমান ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

২৩ নভেম্বর ২০১৬। হুন্ডির মাধ্যমে ১৫,০০০ ডলার পাঠানো হয় ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রতি ডলার ৬৩ টাকা করে।

২৭ ডিসেম্বর ২০১৬। হুন্ডির মাধ্যমে ২০,০০০ ডলার পাঠানো হয়। ডলার প্রতি ৬১.১ টাকা করে বাংলাদেশি টাকা দাঁড়ায় ১২ লাখ ২২ হাজার টাকা।

সর্বোমোট ৬৮ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা পাঠানো হয়।

এদিকে হাউজ বিল্ডিং লোন পরিশোধের বিষয়েও সিনহার বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া গেছে। ১৮ মে ২০১৬ তারিখে গৃহ নির্মাণ ঋণ পরিশোধ বাবদ রঞ্জিতের নিকট থেকে প্রাপ্ত টাকা হতে ৫৫,৭১,৯১২ (পঞ্চান্ন লক্ষ একাত্তর হাজার নয়শত বারো টাকা) টাকা সাবেক এই বিচারপতি পরিশোধ করেন ।

সর্বমোট জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অর্থ সম্পর্কে জানা গেছে, অনিরুদ্ধের নিকট বিচারপতির আরো নগদ ১,১২,৪৩,১৮৮ (এক কোটি বারো লক্ষ তেতাল্লিশ হাজার একশত অষ্টাশি টাকা) টাকা রয়েছে বলে সূত্র জানায়। এছাড়া সিনহার কানাডা ও অষ্ট্রেলিয়াতে অবস্থানরত মেয়েদের কাছে অবৈধ উপায়ে প্রেরণকৃত অর্থ, গৃহ নির্মাণ ঋণ পরিশোধে প্রদানকৃত অর্থ এবং জনাব অনিরুদ্ধ কুমার রায়ের কাছে থাকা অপ্রদর্শিত অর্থের সর্বমোট পরিমাণ অর্থাৎ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্থের পরিমাণ (৮০,১৭,৯০০+ ৬৮,৯২,০০০+ ৫৫,৭১,৯১২+ ১,১২,৪৩,১৮৮) ৩ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তিনি উপরোক্ত পরিমাণ টাকা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি এবং আইনকানুন সঠিকভাবে জানা সত্ত্বেও রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন। তিনি এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং আইন ২০১২ এর অধীন ফৌজদারী অপরাধ করেছেন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন :


Designed By BanglaNewsPost