Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Search in posts
Search in pages
Filter by Categories
English
Lead 1
Lead 2
Lead 4
Lead 5
Lead3
অন্য পত্রিকার খবর
অন্য পত্রিকার খবর ১
অন্য পত্রিকার খবর ২
অন্য পত্রিকার খবর ৩
আরও সংবাদ
ইসলাম
বিবিধ
ভিডিও নিউজ
মৌলিক
শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন :

ব্রিটিশবিরোধী রক্তাক্ত সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ


প্রকাশিত :২৮.০১.২০১৯

নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ। ১৯২২ সালের এ দিনে তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকারের পুলিশ বাহিনীর গুলিতে সলঙ্গার হাটে সাড়ে চার হাজার স্বদেশি আন্দোলনের কর্মী ও সাধারণ মানুষ হতাহত হয়। দিবসটি উপলক্ষে মাওলানা আব্দুর তর্কবাগীশ পাঠাগার, নূরুন্নাহার তর্কবাগীশ ডিগ্রি কলেজ, তর্কবাগীশ মহিলা মাদ্রাসা, তর্কবাগীশ উচ্চ বিদ্যালয়, বিদ্রোহী সলঙ্গা ও সলঙ্গা ফোরাম-সিরাজগঞ্জ পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে আছে প্রভাতফেরি, মিলাদ ও দোয়া  মাহফিল, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, কবি গান ও পুরস্কার বিতরণ।

মাওলানা তর্কবাগীশ গবেষণা কেন্দ্র ও মাওলানা তর্কবাগীশ পাঠাগারের তথ্য মতে, ব্রিটিশ শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনে জনতা উদ্বেলিত হয়ে বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের সংগ্রাম শুরু করেছিল। এমনি একটি আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়। সে সময় তৎকালীন পাবনা জেলার এবং বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গায় একটি ব্যবসায়িক জনপদ হিসেবে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসতো।

১৯২২ সালের ২৭ শে জানুয়ারি শুক্রবার ছিল বড় হাট বার। মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা হাটে নামেন বিলেতি পণ্য কেনাবেচা বন্ধ করতে। আর এ স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের লেলিয়ে দেয়া পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর এন দাস, জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক এস কে সিনহাসহ ৪০ জন সশস্ত্র লাল পাগড়িওয়ালা পুলিশ।

সলঙ্গার গো হাটায় ছিল বিপ্লবী স্বদেশী কর্মীদের অফিস। পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাও দিয়ে গ্রেফতার করে মাওলানা আব্দুর রশিদকে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্ত করতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিদ্রোহে ফেটে পড়ে সলঙ্গার সংগ্রামী জনতা। জনতার ঢল ও আক্রোশ দেখে ম্যাজিস্ট্রেট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি চালাতে নির্দেশ দেয়। শুরু হয়ে যায় বুলেট বৃষ্টি। সেই গুলিতে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার হাটে সাড়ে ৪ হাজার বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনের কর্মীসহ সাধারণ হাটুরে (হাটে আসা মানুষ) জনতা শহীদ হয়। সেই হামলায় ৪০টি রাইফেলের মধ্যে মাত্র ১টি রাইফেল থেকে কোনো গুলি বের হয়নি। এ রাইফেলটি ছিল একজন ব্রাহ্মণ পুলিশের। এ ঘটনায় হতাহতের সরকারি সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার দেখানো হলেও বেসরকারি মতে ১০ হাজারেরও অধিক বলে জানা যায়।

বিলেতি পণ্য বর্জনের আন্দোলনে মাওলানা আব্দুর রশিদ সলঙ্গা বিদ্রোহ উপনিবেশিক শাসনের ভিত লড়িয়ে দিয়েছিল। সলঙ্গার রক্তসিক্ত বিদ্রোহ শুধু বাংলার মাটিকে সিক্ত করেনি, সিক্ত করেছে সমগ্র উপমহাদেশ। যে রক্তে ভেজা পিচ্ছিল পথে অহিংস, অসহযোগ আন্দোলনে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা সলঙ্গা বিদ্রোহেরই ফসল।

মাওলানা তর্কবাগীশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ জানান, সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস একটি ইতিহাস। এই ইতিহাসকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করা উচিত। সলঙ্গা বিদ্রোহে হত্যাকাণ্ডের যে ইতিহাস সেই ইতিহাস জালিয়ান ওয়ালাবাগের ইতিহাসকেও হার মানিয়েছে। তাই এই বিদ্রোহের মহানায়ক আওয়ামী লীগের ১৪ বছরের সফল সভাপতি মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের স্মৃতি রক্ষা, সলঙ্গার গোহাটায় সংগঠিত বিদ্রোহে যারা শহীদ হয়েছিল সেই সকল শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণসহ দিবসটি সলঙ্গা দিবস হিসেবে জাতীয়ভাবে ঘোষণার দাবি করেন সলঙ্গাবাসী।

শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন :


Designed By BanglaNewsPost