বেনজীর আহমেদ আমিরাতে জামিন চাইলে কী হতে পারে?


editor_post25 প্রকাশের সময় : জুন ১৭, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ন /
বেনজীর আহমেদ আমিরাতে জামিন চাইলে কী হতে পারে?

নিউজ ডেস্কঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেফতার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় তাকে কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তাকে দেশে ফেরানো হবে কিনা, সেটি মূলত আদালতের সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক তৎপরতা, আইনি নথিপত্র এবং দুই দেশের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের সাবেক অ্যাসোসিয়েট এডিটর এবং দ্য অ্যারাবিয়ান পোস্টের এক্সিকিউটিভ এডিটর সাইফুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, দেশটিতে সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার থেকে আদালত ও সরকারি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে বেনজীর আহমেদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি জামিনের আবেদন করতে পারেন।

তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের আইনজীবীরা সম্ভবত আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করবেন। আদালত চাইলে তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা অনুরূপ কোনো শর্ত আরোপ করে তাকে দেশটির ভেতরেই অবস্থান করতে দিতে পারে। বাংলাদেশের পরবর্তী কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের ওপরই তার ভাগ্য অনেকাংশে নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে পাবলিক প্রসিকিউশনের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাইফুর রহমান আরও দাবি করেন, বেনজীর আহমেদকে দুবাই বিমানবন্দর থেকে নয়, বরং দুবাই মল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দুবাইয়ের বাসিন্দা হিসেবেও সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বিনিয়োগকারী হিসেবেও পরিচিত। তিনি দেশটির দীর্ঘমেয়াদি ‘গোল্ড কার্ড’ বা ১০ বছর মেয়াদি রেসিডেন্সি সুবিধা পেয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য না থাকলেও এ ধরনের বিনিয়োগকারীদের এমন সুবিধা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ কিংবা বেনজীর আহমেদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলোরা আফরিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএই-এর প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও দেশটির আদালত নির্দিষ্ট কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়।

তিনি বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়; এটি কেবল একটি নোটিশ। আদালত প্রথমে দেখবে, বাংলাদেশে যে অপরাধের অভিযোগে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে, সেই অভিযোগ ইউএই আইন অনুযায়ীও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কিনা।

আইনজীবী আফরিন আরও বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাকি প্রকৃত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেটিও আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

তিনি জানান, বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে বাংলাদেশকে ইউএই আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি, মামলার নথি, অপরাধসংক্রান্ত প্রমাণাদি এবং বাংলাদেশের আদালতের আদেশসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দিতে হবে। আদালত এরপর যাচাই করবে, আইনি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা এবং ইউএই-এর আইন অনুযায়ী নথিগুলো গ্রহণযোগ্য কিনা।

আইনজীবী আফরিনের মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ইউএই আদালতের ওপর নির্ভর করবে।

বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং আরেকটি মামলার বিচার চলছে। এছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ আরও পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তদন্ত চলছে।

ওলোরা আফরিন বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে আইনি ও কূটনৈতিক—দুই ধরনের প্রচেষ্টাই একসঙ্গে চালাতে হবে। তার মতে, কূটনৈতিক চ্যানেলই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রায় ৩০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে।