দুর্নীতিকরে ওয়াসার প্রকৌশলী ফকরুলের অবৈধ সম্পদের পাহাড়, শত কোটি টাকার মালিক


editor_post25 প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন /
দুর্নীতিকরে ওয়াসার প্রকৌশলী ফকরুলের অবৈধ সম্পদের পাহাড়, শত কোটি টাকার মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলী ফকরুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বেনামে জমি ক্রয়, স্ত্রী’র নামে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা পরিচালনা এবং অপ্রদর্শিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে তার সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, পরিবারের নামে থাকা সম্পত্তি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির আড়ালে রাজধানীতে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন ফকরুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের নামে সম্পদ না করে স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে কোটি কোটি টাকার জমি, বহুতল ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, সীমিত বেতনের একজন সরকারি প্রকৌশলীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা বাস্তবসম্মত নয়।অভিযোগ অনুযায়ী, ফকরুল ইসলাম তার স্ত্রী নাদিরা ইয়াসমিন মুক্তা-এর নামে “আম্বিতা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড” পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানটিকে কাগজে-কলমে প্রকৌশলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে এটি ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি কেনাবেচার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লেনদেন, অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ এবং সম্পদ সাদা করার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।অনুসন্ধানে নাদিরা ইয়াসমিন মুক্তা ও শাহ আলী বখতিয়ারের নামে একাধিক জমির দলিলের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোটি কোটি টাকার জমি ও স্থাপনায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে—দলিল নং ১৫১০ ও ১৫১১ (১৩/০৪/২০০২), ২৮১৮ (১৬/০৮/১৯৯৮), ২৫৪৬ (২৪/০৫/২০০৪), ১৪৪৩ (১৪/০৩/২০০৫), ১২১৬ (১১/০২/২০১০) এবং ৫৭০৯ (০৩/০৯/২০১৪)।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং ও লালমাটিয়া এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন ও ফ্ল্যাট ব্যবসার সঙ্গে ফকরুল ইসলামের সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ভবন নির্মাণে যথাযথ অনুমোদনের ঘাটতি ছিল এবং নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো।সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উঠে এসেছে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে অপ্রদর্শিত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি স্কয়ার ফিটের প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম টাকা ব্যাংকে জমা দেখিয়ে বাকি অর্থ নগদে গ্রহণ করা হতো। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কর ফাঁকি, কালো টাকা সাদা করা এবং অর্থের প্রকৃত উৎস গোপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, এসব নগদ অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফকরুল ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠদের বিদেশ যাত্রা, আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়গুলোও তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ সফর ও আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।যদিও ফকরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, নিজের নামে কোনো সম্পদ নেই এবং তার স্ত্রী পারিবারিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সদস্য। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবসা পারিবারিক যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।তবে অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একজন সরকারি চাকরিজীবীর সীমিত আয়ের সঙ্গে এত বিপুল সম্পদ, বহুতল ভবন, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, বিলাসবহুল জীবনযাত্রা ও বিদেশি আর্থিক সংযোগের সামঞ্জস্য কীভাবে সম্ভব। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ফকরুল ইসলাম ও তার পরিবারের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পদের উৎস, বিদেশ ভ্রমণের তথ্য এবং বিদেশে অর্থ পাচারের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।