এডিবির কাছে ২৯ প্রকল্পে ৫১৫ কোটি ডলার চায় সরকার


editor_post25 প্রকাশের সময় : জুন ১৯, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন /
এডিবির কাছে ২৯ প্রকল্পে ৫১৫ কোটি ডলার চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার ত্বরান্বিত করতে প্রায় ৫১৫ কোটি মার্কিন ডলার (৫.১৫ বিলিয়ন ডলার) ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। আগামী দুই বছরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে এই ঋণ নিতে চায় সরকার।

এ লক্ষ্যে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে বাস্তবায়নের জন্য ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের একটি বড় পাইপলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও এডিবির সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত করা নথি অনুযায়ী, এসব প্রকল্প দেশের যোগাযোগব্যবস্থা, নগর উন্নয়ন, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রস্তাবিত অর্থায়নের মধ্যে ২৪৫ কোটি ডলার আসবে এডিবির অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্সেস (ওসিআর) থেকে এবং ২৬৯ কোটি ডলার পাওয়া যাবে কনসেশনাল ওসিআর লেন্ডিং (সিওএল) সুবিধার আওতায়, যা তুলনামূলক সহজ শর্তের ঋণ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ১০টি এবং ২০২৭ সালে ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ১০টি প্রকল্পে মোট ২৪৪ কোটি ডলার অর্থায়ন চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ কোটি ডলার ওসিআর এবং ১৪৯ কোটি ডলার কনসেশনাল ঋণ হিসেবে পাওয়ার আশা করছে সরকার। এ বছরের সবচেয়ে বড় প্রস্তাব হলো অর্থ বিভাগের অধীন ‘স্ট্রেংদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রাম (সাবপ্রোগ্রাম-২)’। অর্থনৈতিক সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা সংস্কারের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির জন্য ৭৫ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ কোটি ডলার সাধারণ ঋণ এবং ৩০ কোটি ডলার সহজ শর্তের অর্থায়ন।

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডর রোড ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্ট’-এর দ্বিতীয় ধাপের জন্য ৩০ কোটি ডলার চেয়েছে। শিক্ষা খাতে ‘নেক্সটজেন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’-এর জন্য আরো ৩০ কোটি ডলার এবং সামাজিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে ‘সেকেন্ড স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নগর উন্নয়ন ও জনসেবামূলক প্রকল্পও ২০২৬ সালের তালিকায় গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ‘নারায়ণগঞ্জ গ্রিন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য ১১.৫৮ কোটি ডলার এবং ‘ক্লাস্টার টাউনস ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রজেক্ট’-এর জন্য ১৫ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন, সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়ন, উচ্চমূল্যের ফসলের বাণিজ্যিকীকরণ এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পও এই তালিকায় রয়েছে।

২০২৭ সালে প্রকল্প পাইপলাইনের পরিধি আরো বড় হচ্ছে। ওই বছরের ১৯টি প্রকল্পের জন্য মোট ২৭১ কোটি ডলার অর্থায়ন চাওয়া হবে। এর মধ্যে ১৫০ কোটি ডলার ওসিআর এবং ১২০ কোটি ডলার কনসেশনাল ঋণ হিসেবে পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবহন ও লজিস্টিকস খাত এ সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ধীরাশ্রম ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) প্রকল্পের জন্য ৩০ কোটি ডলার এবং রেলওয়ের রোলিং স্টক প্রকল্পের জন্য ২০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে ‘লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন প্রজেক্ট’-এর জন্য আরো ১৫ কোটি ডলারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

জ্বালানি খাতে বিদ্যুৎ বিভাগের দুটি বড় প্রকল্পও তালিকায় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ‘পাওয়ার ট্রান্সমিশন গ্রিড নেটওয়ার্ক মডার্নাইজেশন প্রজেক্ট’-এর জন্য ২৫ কোটি ডলার এবং ‘ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য ২০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ‘অ্যাডাপ্টিভ রিভার সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য ১৫ কোটি ডলার এবং ‘রেজিলিয়েন্ট রিভার অ্যান্ড ক্যানেল রেস্টোরেশন ফ্যাসিলিটি’-এর আওতায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে।