যেভাবে মিলবে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা


editor_post25 প্রকাশের সময় : জুন ২৫, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ন /
যেভাবে মিলবে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা

নিউজ ডেস্কঃ ৫ কেন্দ্রে পাওয়া যাবে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও চালু হচ্ছে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা। আগামী ২৮ জুন থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক) পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু করবে।

প্রায় দুই বছর পর ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনলাইনে আবেদন শুরু যেভাবে

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে প্রথমে ভারতের অনলাইন ভিসা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘রেগুলার ভিসা অ্যাপ্লিকেশন’ অপশন নির্বাচন করে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এবং ভিসার ধরন হিসেবে ট্যুরিস্ট ভিসা নির্বাচন করতে হবে।

এরপর আবেদনকারীকে পাসপোর্ট অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের বিবরণ এবং ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

আবেদন সম্পন্ন হলে একটি ওয়েব ফাইল নম্বর বা অ্যাপ্লিকেশন আইডি পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতের সব ধরনের যোগাযোগ ও ট্র্যাকিংয়ের জন্য এই নম্বর সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।

এরপর সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের একটি ডিজিটাল ছবি আপলোড করে আবেদনপত্র প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করতে হবে।

যেসব কাগজপত্র লাগবে

ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে এবং অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে—

বর্তমান পাসপোর্ট
পূর্বের পাসপোর্ট (যদি থাকে)
সাম্প্রতিক তোলা রঙিন ছবি
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের কপি
বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র
পেশাভিত্তিক প্রয়োজনীয় নথি

চাকরিজীবীদের জন্য অফিসের প্রত্যয়নপত্র বা এনওসি, ব্যবসায়ীদের জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স এবং শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বা বোনাফাইড সনদ জমা দিতে হবে।

আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বাধ্যতামূলক

ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও দেখাতে হবে।

এ জন্য প্রয়োজন হবে—

গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অথবা
পাসপোর্টে কমপক্ষে ১৫০ মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা অ্যান্ডোর্সমেন্ট

বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপিও জমা দেওয়া যেতে পারে।

ফি পরিশোধ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট

অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আইভ্যাকের নির্ধারিত পেমেন্ট পোর্টালের মাধ্যমে প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হবে।

এরপর আইভ্যাক বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট আগের দিন সন্ধ্যা ৬টায় উন্মুক্ত করা হয়। তবে আবেদনকারীকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সাইন-আপ সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার দিন যা করবেন

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর নির্ধারিত দিনে প্রিন্ট করা আবেদনপত্র, পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইভ্যাক কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।

সাধারণত সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়।

সেখানে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং একটি রিসিপ্ট বা ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হবে।

ফাইল যেভাবে সাজাবেন

ভিসা সেন্টারে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্দিষ্ট ক্রমে সাজিয়ে নেওয়া ভালো। প্রথমে থাকবে প্রিন্ট করা অনলাইন আবেদনপত্র, এরপর আইভ্যাক ফি প্রদানের স্লিপ। এর সঙ্গে মূল পাসপোর্ট ও পুরোনো পাসপোর্ট, পাসপোর্টের তথ্যপাতার ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদের কপি, বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র, পেশার প্রমাণ এবং আর্থিক সক্ষমতার নথি সংযুক্ত করতে হবে।

কাউন্টারে জমা ও বায়োমেট্রিক

ভিসা সেন্টারে প্রবেশের পর প্রথমে কাগজপত্র প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হবে। এরপর আবেদনকারীকে একটি টোকেন দেওয়া হবে। টোকেন নম্বর ডাকার পর নির্ধারিত কাউন্টারে ফাইল জমা দিতে হবে।

কাউন্টার কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় নথি যাচাই শেষে আবেদনকারীর ডিজিটাল ছবি, আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশ স্ক্যান গ্রহণ করবেন। সবশেষে একটি রশিদ দেওয়া হবে। পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় এই রশিদ প্রয়োজন হবে, তাই এটি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করতে হবে।

ট্র্যাকিং ও পাসপোর্ট সংগ্রহ

আবেদন জমা দেওয়ার পর আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে রশিদের নম্বর ব্যবহার করে ভিসার অগ্রগতি বা স্ট্যাটাস দেখা যাবে। ভিসা প্রস্তুত হলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে। এসএমএস পাওয়ার পর রশিদে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী, সাধারণত বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে আইভ্যাক কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।

কত দিনে মিলবে ভিসা

ভারতীয় ভিসার আবেদন জমা পড়ার পর সাধারণত ন্যূনতম তিন কার্যদিবস সময় লাগে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। তবে নথিপত্র যাচাই, আবেদনকারীর জাতীয়তা এবং বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সময় আরও বেশি লাগতে পারে। ভিসা অনুমোদিত হলে আইভ্যাক কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।

আবেদনকারীদের জন্য সতর্কতা

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর আর কোনো তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকে না। তাই নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বরসহ সব তথ্য একাধিকবার যাচাই করে আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা ওয়েব ফাইল নম্বর ভবিষ্যৎ যোগাযোগের জন্য সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।