
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘হস্তক্ষেপ’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজকে এ জলপথ দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
রোববার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী দাবি করে, এর আগে তারা সতর্ক করেছিল যে বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ‘অবৈধ রুট’ নির্ধারণের চেষ্টা করলে তারা কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং নৌযান চলাচল ব্যাহত হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক ঘণ্টা আগে বিদেশিদের প্ররোচনায় কয়েকটি জাহাজ অনুমোদিত পথ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। বারবার সতর্ক করা হলেও তারা নির্ধারিত রুটে ফিরে যায়নি। এ সময় সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে একটি জাহাজকে সতর্কতামূলক গুলি করে থামানো হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আইআরজিসি ঘোষণা দেয়, সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এ সময় কোনো জাহাজকে প্রণালিটি অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।
আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই ঘটনার অজুহাতে যদি তাদের প্রতিপক্ষ নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরান কঠোর জবাব দেবে এবং এ অঞ্চলে থাকা প্রতিপক্ষের নতুন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সহযোগী দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলা হয়, সম্ভাব্য যেকোনো পরিণতির দায় তাদেরই বহন করতে হবে।
আইআরজিসির দাবি, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে তারা শত্রুপক্ষ ও তাদের মিত্রদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে মে মাসে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়। এতে তেহরানের নির্ধারিত তদারকি অঞ্চলের বাইরে চলাচল না করতে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমাতে একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও ওয়াশিংটন জলপথে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
আপনার মতামত লিখুন :