
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :গাজায় ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট ৬ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে একজন কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার ক্যামেরাপার্সনও রয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২০ জুন) আল-থালাতিনি এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে দখলদার বাহিনীর হামলায় শিশুসহ একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে বেইত লাহিয়া ও উত্তর গাজার আরও কয়েকটি এলাকায় আলাদা হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি আবাসিক বাড়িতে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন আল জাজিরা মুবারশারের ক্যামেরাপার্সন আহমেদ ওয়াশাহ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এক বিবৃতিতে আল-জাজিরা তাদের এ কর্মীকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করায় ইসরাইলি বাহিনীর তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন হামলায় এ নিয়ে আল জাজিরার ১২ জন কর্মী নিহত হলেছেন।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি আর বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিবৃতিতে আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।
এদিকে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন গড়ে অন্তত একটি করে ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। মুখপাত্র জেমস এল্ডার জানিয়েছেন, উপত্যকাটির শিশুরা ঘরবাড়ি, স্কুল, এমনকি ফুটবল খেলা বা মাছ ধরার সময়ও হামলার শিকার হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে উপত্যকাটিতে মাত্র ২ হাজার ৪টি শিশুর জন্ম নিবন্ধিত হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের নভেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৭৬। অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসে জন্মহার কমেছে প্রায় ৬৭ শতাংশ।
একইসঙ্গে এপ্রিল মাসেই নথিভুক্ত হয়েছে ৯২১টি গর্ভপাত। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বোমাবর্ষণের ধোঁয়া, বিষাক্ত ধূলিকণা, দূষিত পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাব এর পেছনে বড় কারণ।
আপনার মতামত লিখুন :